পেঁয়াজের বাজারে আগুন, দামে অস্থিরতা!

খুলনাজুড়ে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নগরীসহ পুরো জেলাজুড়ে সাতদিনে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দর

২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। অথচ সরবরাহ স্বাভাবিক। তারপরও কেন বেড়েছে এই নিত্যপণ্যের দাম- সরকার, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক তা কেউই জানেন না। অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। খুলনার বেশকিছু বাজার ঘুরে

দেখা গেছে এমন চিত্র। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের প্রতিবেদনে দাম বাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। শনিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে

৭০টাকা। গত সপ্তাহে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এদিকে আমদানি করা পিয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে

৪৫ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে, গত এক মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩৪.৬৮ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর অক্টোবর মাসের এই সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে, গত এক মাসে

আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ২৩.৫৩ শতাংশ বেড়েছে। শুধু পিয়াজই নয়, দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে ভোজ্য তেল, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, আদা, হলুদ ও রসুন। পিয়াজসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজ মজুত রেখে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই সময় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। আর ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে দেশের বাজারে

পেঁয়াজের দাম বাড়তি। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৪ থেকে ৫ দিন আগেও পেঁয়াজের দর ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকার উপরে। আর খুলনার পাইকারি আড়ৎ গুলোতে কেজি প্রতি রাখা হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে দাম বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। এ ছাড়া ভারত বা বাংলাদেশ কোনো পক্ষই

পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ করেছে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমদানিকারকরাও বলছেন, পিয়াজের আমদানির গতি কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়নি। ভারতে বৃষ্টির কারণে কিছু পিয়াজ নষ্ট হওয়ায় এবং পূজা উপলক্ষে গতি কমেছে।

খুলনার গল্লামারী খুচরা বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা হেলাল শেখ এবং জসীম বলেন, আর কয়েকদিন পর পূজা এ জন্য আমদানি কম হচ্ছে। যার ফলে দাম অনেকটা বাড়ছে। এ ছাড়া পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে। তাই দামও খুব চড়া। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে।

মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। তাই আমরাও বাড়িয়ে বিক্রি করছি। আগামীতে আরও দাম বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। বলেন, কাঁচামালের বাজার এমনই। সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে। বাজারে এখন পেঁয়াজ কম, তাই দামও বেশি।

নগরীর সোনাডাঙ্গার ট্রাক টার্মিনালের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও ফরাজি বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক মোঃ এজাজুল ইসলাম এবং জাহিদুল ইসলাম জানান, ভারতের বাজার দর বাড়ায় দেশীয় এ পণ্যটির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। যেহেতু পেঁয়াজ ভারত নির্ভরশীল পণ্য।

এ অবস্থা দেখে দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুদ করে দাম অস্বাভাবিক আকারে বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের নিকট যে পরিমাণ পেঁয়াজের মজুদ আছে তা দিয়ে চার থেকে মাস দেশের মানুষের পেঁয়াজের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। ভারতীয় পেঁয়াজের প্রয়োজন হয় না। আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে পেঁয়াজের মোকামগুলোতে অভিযানের কথা বলেন তিনি।

জানা গেছে, এ বাজারে পেঁয়াজের ৩৫টি আড়ত রয়েছে। আড়তগুলোতে যে পরিমাণ পেঁয়াজের প্রয়োজন তা আসছে না। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম কিছুটা কমেতে পারে। তা না হলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও দেশে এ বছর পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০/২৫ টাকা করে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০/৭৫ টাকায়।

হঠাৎ করে কেজিতে ২০/২৫ টাকা বেড়ে যাওয়ার তেমন কোনো কারণ জানাতে পারেনি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে তারা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং রাখি ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বাজারে না ছাড়ার কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেনাপোল কোনো বন্দর দিয়েই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়নি। তবে পূজার কারণে সীমান্তের ওপার থেকে পেঁয়াজসহ সব ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন আসছে কম। তবে পেঁয়াজের তেমন কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও দাম বাড়ছে। ভারতে পূজা আর বর্ষার কারণে দাম বৃদ্ধি, তার প্রভাবে পেঁয়াজ আমদানি কম হওয়ার কারণে দামও বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পেঁয়াজ আমদানিকারকরা।

এখানে তিন-চার দিন আগেও প্রতি কেজি পিয়াজের আমদানি মূল্য ছিল মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। কিন্তু এখন আমদানি করা পেঁয়াজের দাম পড়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তাদের দাবি, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজ মজুত রেখে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা লাভের আশা করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান ক্রেতারা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*